পরিবর্তন হচ্ছে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা পদ্ধতি । ফের শিক্ষা ব্যবস্থা বদলে যাচ্ছে ‌।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা মূল্যায়ন পদ্ধতি বদলে যাচ্ছে। যা সর্বশেষ ২০১২ সালে পরিবর্তন হয়েছিল । এবারের নিয়মে দশম শ্রেণিতে আলাদা বই দেয়া হবে, তার ওপর ভিত্তি করে শ্রেণির পড়ালেখার কার্যক্রম হবে এবং বইয়ের ওপরই ভিত্তি করে হবে এসএসসি পরীক্ষা। বহু পূর্বের মতোই এইচএসসি পরীক্ষা দুই বছরে দুইবার নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন । প্রথমে একাদশ শ্রেণিতে পড়া বিষয়গুলোর ওপর বছর শেষে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এর নম্বর নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ড সংরক্ষণ করবে। পরে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া বিষয়ের ওপর আবার পরীক্ষা দেবে শিক্ষার্থীরা। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ফল যোগ করে এইচএসসির ফল ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট মাধ্যমে জানা গেছে, ইতিমধ্যে নতুন করে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন আনার কাজ শুরু করা হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত থাকবে না পরীক্ষা। চতুর্থ শ্রেণী থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ৭০ শতাংশ নম্বর থাকবে ধারাবাহিক মূল্যায়নে। এছাড়া অষ্টম-নবমে ৬০, দশমে ৫০ শতাংশ এবং এইচএসসিতে ৩০ শতাংশ নম্বর ধারাবাহিক মূল্যায়নের আওতায় আসবে। ২০১২ সালের পর আবার শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার আসছে নিয়ে আসছে বাংলাদেশ শিক্ষামন্ত্রণালয়। এর আগে ১৯৯৫ সালেও এ শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

জানা গেছে, আগামী বছর শুধু চারটি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেয়া হবে।প্রথম ও দ্বিতীয় এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীতে পাঠ্যবই দেওয়া হবে।

এই চলতি বছরেই দেশের বিভিন্ন স্কুলে এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে। তবে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়িত হলে বাড়বে সাপ্তাহিক ছুটি তা  দুইদিন করে দেয়া হবে। তবে বর্তমানে শিক্ষাক্রমে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। সরকারের নির্বাহী আদেশে পরীক্ষা দুটি হচ্ছে। প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রমেও এ বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা নেই বলে জানা গেছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, বর্তমানে ২০১২ সালে প্রবর্তিত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া চলছে। তবে বিশ্বব্যাপী প্রতি পাঁচ বছর পরপর শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা হয়ে থাকে। যুগের চাহিদা ও বাস্তবতা বিবেচনায় এটা স্বাভাবিক কার্যক্রমেরই অংশ। সেই হিসেবে আরও আগে এ পরিবর্তন আসা প্রয়োজন ছিল।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভাগ হয়ে যায়। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী, দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীই একই পাঠ্যবই পড়বে। এমনকি এ দুই শ্রেণিতে তারা প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ পাবে।

0/একটি মন্তব্য করুন/Comments